বাবা-মা হলেন লাইফলাইন। তাই ঝগড়া করে সম্পর্কটা শেষ করে দেবেন না। in bengali | POPxo

উঠতি বয়সে বাবা-মার সঙ্গে মতপার্থক্য হবেই, কিন্তু তা বলে সম্পর্ক যেন তলানিতে গিয়ে না ঠেকে

উঠতি বয়সে বাবা-মার সঙ্গে মতপার্থক্য হবেই, কিন্তু তা বলে সম্পর্ক যেন তলানিতে গিয়ে না ঠেকে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ছেলেমেয়েরই নিজের একটা ভাবধারা তৈরি হয়। নিজস্ব মতামতের গুরুত্বও বাড়ে। এদিকে বাবা-মার সঙ্গে জেনারেশন গ্যাপের কারণে অনেক সময়ই তাঁদের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দেয়। কিছু-কিছু সময় তো ঝগড়াঝাঁটিও বেধে যায়। আর ঝগড়া চলতে থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দূরত্ব (Relationship) বাড়তে থাকে, যা মোটেই কাঙ্খিত নয়। কিন্তু এটাও ঠিক যে একটা বয়সের পরে এমন ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক নয়। তাই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যে এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়? ভুলে গেলে চলবে না বাবা-মা হলেন আমাদের জীবনের সব থেকে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। একবার ভাবুন তো, ছোটবেলায় মা যদি প্রতি মুহূর্তে আপনাদের পাশে না থাকতেন, তা হলে কী হত? বাবা যদি শাসন করে ঠিক-ভুলের রাস্তা না দেখাতেন, তা হলে কি আজকের এই মহীরুহ হয়ে উঠতে পারতেন? মনে তো হয় না! তাই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করুন যে, এখনও বাবা-মায়ের ছত্রছায়া মাথার উপর রয়েছে। যেদিন ওঁরা থাকবেন না, সেদিন বুঝবেন ঠেলা কারে কয়! তখন ওঁদের কথা ভেবে কষ্ট হবে। কিন্তু কিছু করার থাকবে না। তাই তো বলি, এখন যখন সুযোগ রয়েছে, সে সুযোগ হাত ছাড়া করবেন না। বরং এই টিপসগুলি মাথায় রাখুন। দেখবেন, নিজের মতামত বজায় রেখেও বাবা-মার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

বাবা-মাকে বন্ধু ভেবে মতামত দিন

বাবা-মাকে কাছে টেনে নিন
Pixabay

আপনি যতই বড় হয়ে যান না কেন, বাবা-মায়ের চোখে তো আপনি তাঁদের ছেলে-মেয়ে। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা নিজের মতামত আপনার উপর চাপিয়ে দেবেনই। কারণ, তাঁরা ভাবেন তাতেই আপনার মঙ্গল। এদিকে বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে যে আপনারও মতামত গড়ে উঠেছে। ভাল-মন্দের জ্ঞান হয়েছে, সে কথা অনেক সময়ই বাবা-মায়েরা (Parents) বুঝে উঠতে পারেন না। আর তখনই সমস্যাটা তৈরি হয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে চিৎকার-চেঁচামেচি না করে তাঁদের পুরো বিষয়টা বুঝিয়ে বলুন। আপনি যে বড় হয়েছেন, তা নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন থেকে বুঝিয়ে দিন। সেই সঙ্গে একটু মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। যখন বাবা-মা আপনার কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন কিছু বলার আগে মনে মনে একবার ভাবুন তো এমন পরিস্থিতিতে আপনার দু'জন বন্ধু সামনে থাকলে কীভাবে কথা বলতেন। ঠিক সেই মতো কথোপকথন শুরু করুন। এমন ব্যবহার করুন, যাতে বাবা-মাও বুঝতে পারেন যে, আপনি তাঁদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশতে চান। সব কথা খুলে বলুন। তাঁদের কথাও মন দিয়ে শুনুন। নিজেদের মধ্যে একটা সুস্থ পরিবশ তৈরি করুন। এমন চেষ্টা চালিয়ে গেলে দেখবেন বাবা-মাও আপনার বন্ধু হয়ে উঠবেন। তখন আর কোনও সমস্যাই থাকবে না।

বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি

সঙ্গী হয়ে উঠলেই তো দূরত্ব মিটবে
Pixabay

কখনও ভেবে দেখেছেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি হয় কেন? আসলে বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের নিজেদের একটা জগত তৈরি হয়। আর সেই ছোট্ট দুনিয়াটাতেই সময় কাটাতে আমরা পছন্দ করি। তাতে করে প্রথমেই বাবার সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। পরে সেই দলে মা-ও জুড়ে যান। এই কারণেই আপনার চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগই পান না বাবা-মায়েরা, যে কারণে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফলে ঝগড়া-অশান্তি বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কথায় কথায় ঝগড়া না করে একটু বুদ্ধি খাটান। দেখবেন, তাতেই অর্ধেক সমস্যা মিটে যাবে। সময় পেলেই বাবা-মায়ের সঙ্গে আড্ডা মারুন। হাসি-ঠাট্টা করুন। এই ভাবেই দেখবেন দূরত্ব ঘুচে যাবে। শুধু তাই নয়, বাবা-মাও আপনার মন বুঝে ওঠার সুযোগ পাবেন। আর তা না করে যদি কথা বলা কমিয়ে দেন, তা হলে কিন্তু ভুল করবেন। মনে রাখবেন, চুপ থাকলে দূরত্ব কমে না বরং বাড়ে। তাই দয়া করে এই ভুল কাজটা করবেন না যেন!

মাঝে-মধ্যে একটু সারপ্রাইজ করতে ক্ষতি কি

 বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণেই খুশির সন্ধান পান
Pixabay

বাবা-মা আমাদের জন্য যা করেছেন, সেই ঋণ এই জীবনে শোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁদের খুশি রেখে জীবনটাকে তো সুন্দর করে তুলতে পারি। আমার-আপনার যেমন সিনেমা দেখতে, রেস্তরাঁয় খেতে যেতে ভাল লাগে। ওনাদেরও নিশ্চয় একই ইচ্ছা হয়। কিন্তু নানা কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করে উঠতে পারেন না। আমাদের দায়িত্ব হল সেই সব ইচ্ছে পূরণ করা। বাবা-মা যদি ঘুরতে যেতে ভালবাসেন, তা হলে মাঝে মধ্যেই সারপ্রাইজ ট্রিপের আয়োজন করুন। আর যদি আপনার বাবা-মা খেতে ভালবাসেন, তাহলে তো নতুন-নতুন রেস্তরাঁয় ঢুঁ মারা মাস্ট! মাকে নিয়ে কখনও-সখনও সিনেমা দেখতেও যেতে পারেন। বাবা-মায়ের যদি খুব বয়স্ক না হন, তা হলে কোনও এক ছুটির দিনে সদল বলে ইকো পার্কে ঘুরে আসুন না! তাতে করে স্ট্রেস তো কমবেই। সেই সঙ্গে বাবা-মায়ের সঙ্গে মন কষাকষিও মিটে যাবে। তাছাড়া ওঁরা যখন দেখবেন আপনি এত কিছু করছেন, তখন আপনা থেকে তারাও আপনার মতামতের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে উঠবেন। ফলে মতপার্থক্য হওয়ার আশঙ্কাই আর থাকবে না।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আমাদের এক্কেবারে নতুন POPxo Zodiac Collection মিস করবেন না যেন! এতে আছে নতুন সব নোটবুক, ফোন কভার এবং কফি মাগ, যেগুলো দারুণ ঝকঝকে তো বটেই, আর একেবারে আপনার কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে। হুমম...আরও একটা এক্সাইটিং ব্যাপার হল, এখন আপনি পাবেন ২০% বাড়তি ছাড়ও। দেরি কীসের, এখনই POPxo.com/shopzodiac-এ যান আর আপনার এই বছরটা POPup করে ফেলুন!